আলাপ

 

আলাপ

 

এখন সবচেয়ে জরুরী বিষয়টা হল

আপনার সাথে দেখা হওয়াটা

জল ছেড়ে মাছের ডাঙায় ওঠার মতো নয়

নয় জিরাফের মতো মগডালে তাকিয়ে থাকা

 

এখন পরস্পর পরস্পরের হাতে

হাত রেখে চোখের পলকে পলকে

ধানক্ষেতের আলে আলে সোনালি দৌড়

ভাবুন যদি সম্ভব হতো, এখন এইসময়

 

এখন কাস্তে হাতুরি নিয়ে আমরা দুজনে

ধরুন, মানবিক শপথে পথ খুঁজে নিতে

বেথেলহেমের পথে, রক্তার্ত ক্রুশের কাছে

প্রণত, তারপর আসন্ন যুদ্ধের প্রস্তুতি

 

এখন গণ প্রতিরোধের পথে আমরা দুজনে-

ধরুন, নাম লিখিয়ে ফেলেছি গণফৌজে

কমরেড কথাটা বড়ো ক্লিশে হয়ে গিয়েছে

আসুন আমরা বরং পরস্পর অভিন্ন হৃদয়

 

এখন অন্ধ বিশ্বাসের সময় নয়, ভক্তির বিষয়টা

বড়ো গোলমেলে, বরং পরস্পরের ভিতরে

বাস করা অনেক ভালো, সহমর্মীর মতো

জলের ভিতরে মাছ যেমন খেলা করে, শ্বাস নেয়

 

এ জগত প্রপঞ্চময়, তাই পরস্পর হাতে

হাত রাখা ভালো। ভালো হাত ধরে থাকা

বিশ্বাস ভক্তি নয়, সৃষ্টির অনাদি তত্ত্বে

আপনার সাথেই আলাপটা বড়ো জরুরী আজ

 

২৯শে সেপটেম্বর ২০২৩

ঋণ

 

ঋণ

 

আত্মশ্লাঘার ঘরের নামতায়

যা কিছু আউড়িয়ে এসেছি

চোখ বুঁজে

ভালবাসা

প্রেমালাপ

যুক্তি

তর্ক

সংলাপ

 

সেই সব

প্রহসনগুলি’র

একটি সংকলন

প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল একদিন

 

আশার ঘরের নামতায়

যাদের জন্য অপেক্ষা ছিল

দুরন্ত দুর্বার

বিশ্বাস

ভরসা

সাম্য

নিঃস্বার্থ আদর

আকন্ঠ পিপাসা

 

সেসবের গোড়ায়

অগণন ঘুণ পোকা

ইতিহাসের চরকায়

তেল দিয়ে গেছে প্রতিদিন

 

সরীসৃপ সময়

সুড়ঙ্গ বরাবর

অন্ধকারে ধরে রেখেছে

লোভ

মোহ

ক্ষমতা

আস্ফালন

বিরহ

 

এইসব পাঠাভ্যাস নিয়ে

শিক্ষিত সিলেবাস জুড়ে

সন তারিখ সিংহাসন

সমাজ সংসার নিত্যদিন

 

বাকি কথা পরে হোক বরং

মুখোমুখি একদিন বসে

নিরিবিলি অন্তিম প্রহরে

এলোমেলো চোখ

দু’ফোটা শিশির

ঘাসফড়িং

ঢেউজল

চিন্তার ভিড়

 

সময়ের নির্ঘন্ট মেনে

অন্তিম ঘুমের সময়

মাথার উপর খাঁড়ার মতোন

সাত সমুদ্র ঋণ

 

২৬শে সেপটেম্বর ২০২৩

ছায়াকথা

 

ছায়াকথা

 

নিজেরই ছায়া

নিজের ছায়াকেই

করেছি অনুসরণ নিজেই

 

এক পা’ দুই পা করে

যত পা ছায়ার দৌড়

ততটা দূরত্ব করেছি পার

 

ছায়া কি জানে

কখন, কে বা কারা

ধাওয়া করে ছায়ার পিছু পিছু

 

এই পথ, গলি তস্য গলি ঘুরে

রাজপথে ছায়াদের মিছিলে

আমিও আমার ছায়ার পিছু পিছু

 

গোপনে নয়, গোপনও নয়

সবকিছুই সকলেই জেনে গিয়েছে

তবু সব না জানার ভান করে বসে রয়েছে

 

সেই ভিড়ে আমিও দেখে ফেলি

আমারই ছায়ার মুখে

আমার মুখোশেরই ছবি

 

মুখোশের আড়ালে যেই মুখ

সেই মুখ, কোন মুখেই বা আর

মুখ দেখায়! পরস্পর পরস্পরের ছায়ায়

 

আমি তাই আমারই ছায়ায়

ছায়া হয়ে ছায়ার আড়ালে আবছায়

মিশে যাই আরও সব ছায়াদের ভিড়ে

 

২৬শে সেপটেম্বর ২০২৩

 

 

ধারাবিবরণী

 

ধারাবিবরণী

 

ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান নই

যে নেই, তাঁকে নিয়ে চিন্তা কিসের?

 

আমি তাই, আমার নিজের কথা বলি

যে আছে, ছিল এবং থাকবে চিরকাল

 

যে জান, যতদূর বিশ্ব চরাচর ততদূর

সত্য সে নিজে, বাকি সব তারই ইচ্ছে ‘যে

 

এইকথা একবার জেনে গেলে, কি হবে

ঈশ্বরে? যে নেই তাঁকে নিয়ে টানাটানি করে?

 

এই তো আমিই সে, যে রয়েছে নিজে

সকল আনন্দ হয়ে নিরানন্দ অন্ধকারে

 

তারপর গল্পের শুরু মহাশূন্য কিংবা মহাকাল

সব দিকেই সেই আমি, আমাতেই বিরাজমান

 

বুকের ভিতর সেই সত্য রয়ে গিয়েছে

নিশ্চিন্তে নির্বিঘ্নে উত্তর দক্ষিণে পুবে পশ্চিমে

 

অনাদি অতীত হোক কিংবা অনন্ত বিশ্ব

আমার বাইরে কিছু নেই, …কোন দৃশ্য

 

এই আমি, আমার সবটুকু নিয়ে তারপর

শুধু ভালবেসে ভালবাসা দিয়ে অষ্টপ্রহর

 

২৯শে সেপটেম্বর ২০২৩

বদল

 

বদল

 

ক্রমাগত পাল্টে যাচ্ছে

শ্রীমুখগুলি, মুখভঙ্গি

চোখের চাহনি

মুখের হাসি

 

কথার ভাষ্য

চিন্তার অভিমুখ

বিশ্বাসের খুঁটি

আশ্বাসের বরাভয়

 

ক্রমাগত পাল্টে যাচ্ছে

গলি থেকে রাজপথ

বাড়ির দালান

সিন্দুকের ঠিকানা

 

নিন্দুকের কলা

মিছিলের গলা

পতাকার রঙ

ব্যালটের ছাপ

 

ক্রমাগত পাল্টে যাচ্ছি আমি

আমার মুখোশ

রোজকার হাঁটা

হাতের কারসাজি

 

আত্মজীবনীর পাতা

পরিজন স্বজন

পরিচিত মুখের ছবি

চেনা ছকের পরিধি

 

২৬শে সেপটেম্বর ২০২৩

যেখানে মানুষ নেই…

 

যেখানে মানুষ নেই…

 

এখানে শয়তানের পা পড়েনি

এখানে শয়তানি করে না কেউ

এখানে ঈশ্বরেরও পা পড়েনি

এখানে অন্ধভক্ত নেই কোথাও

 

এখানে সবজান্তা পণ্ডিতের ছায়া নেই

এখানে মূর্খদের জমায়েত হয় না

এখানে হিতোপদেশের ঝামেলা নেই

এখানে মনুও নেই সংহিতাও নেই

 

এখানে বিধি নেই বিধান নেই

এখানে ধর্মও নেই গ্রন্থও নেই

এখানে ছলাকলা চালকলা নেই

এখানে ঘেরাটোপ নেই গণ্ডীও নেই

 

এখানে রাজা নেই রাজনীতি নেই

এখানে প্রজা নেই প্রজাতন্ত্রও নেই

এখানে সঙও নেই সংবিধানও নেই

এখানে গোষ্ঠী নেই কোন্দলও নেই

 

এখানে পুঁজি নেই পুঁজিপতিও নেই

এখানে ঠগবাজি নেই ঠগীও নেই

এখানে পাপ নেই পাপীও নেই

এখানে শোষণ নেই শোষকও নেই

 

এখানে মানুষ নেই তাই শান্তি চারিদিক

এখানে মানুষ নেই তাই ভালবাসা বহমান

এখানে মানুষ নেই তাই জীবনটা সুন্দর

এখানে মানুষ নেই তাই সকলের মঙ্গল

 

২৭শে সেপটেম্বর ২০২৩

 

 

 

শিখণ্ডী

 

শিখণ্ডী

 

কথা বলা মুখে

মিথ্যে লেগে রয়েছে

অর্ধসত্য থেকে ডাঁহা মিথ্যে

 

ডাঁই ডাঁই মিথ্যের স্তুপ

স্তুপের উপরে রঙিন পতাকা

আর ক্রমাগত শিলান্যাস

 

থেকে থেকে লাইট ক্যামেরা সাউণ্ড

হাসি হাসি মুখ, হাসতে হাসতে

অর্ধসত্য আর মিথ্যের ককটেল

 

নীচে সমবেত জনতা

পতাকার রঙে রঙ মিলিয়ে

উৎসাহিত উদ্দীপ্ত

 

উপরে সেই তিনি

ত্রিনয়নাতীত মহাকাল

দিবানিদ্রায় মগ্ন

 

এদিকে ইতিহাসের পাতায় আমি

শিখণ্ডী মতো নিজেই

নিজের কবর খুঁড়ে চলেছি

 

২৭শে সেপটেম্বর ২০২৩

সরীসৃপ পথ

 

সরীসৃপ পথ

 

রাত্রিবেলায় বুকের ভিতরে

তুমি শুয়েছিলে

তোমার শরীর জুড়ে সাত সমুদ্র ঢেউ

আর আমি কলম্বাস আনন্দে

তাথৈ তাথৈ জীবনতরীর নাবিক

 

রাত্রিবেলায় সে’ও এসেছিল

নীরবে নিশ্চুপে নিভৃতচারী সরীসৃপ পথে

ছায়ার মতোন পা ফেলে ফেলে

আর আমি চমকে উঠে দেখি

সিলিংফ্যানের সাথে ঝুলছে আমার দেহ

 

রাত্রিবেলায় অনেক কিছুই ঘটে

সময়ের আগে পরে হয়ে গেলে

বিভ্রম জাগে, গল্পের তাল যায় কেটে

সন্দিগ্ধ অন্ধকার মাথার ভিতরে

ঘুণপোকার জন্ম দিতে থাকে

 

সেই থেকে আমি, ডিঙি ছেড়ে

জল ছেড়ে, কেবলই ডাঙা খুঁজেছি

কোন এক মগডালের স্বপ্নে…

যেখানে জলে ডুবে মরার ভয় নেই

যেখানে সাত সমুদ্রের ঢেউ নেই

 

২৭শে সেপটেম্বর ২০২৩

স্কন্ধকাটা ভিড়ে

 

স্কন্ধকাটা ভিড়ে

 

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পর

হস্তিনাপুর মহাশশ্মান

চারিদিকে চিতার আগুন

মধ্যরাতে আলোর উৎসব

 

তারই আড়ালে আগুনের ভিতর

মহাশূন্যের শাশ্বত অন্ধকার
কোন বাণী নেই কোন মতবাদ নেই

শুধু অস্ফুট গুঞ্জনধ্বনি

 

গুমোট বাতাসের মতো

দমবন্ধ অস্বস্তিকর সময়

শুধু মৃত সৈনিকদের ছায়া

স্কন্ধকাটা বিকলাঙ্গ ভিড়

 

সেই ভিড়ে বাকিদের সাথে

সেই তিনি, ঠুটো জগন্নাথের মতো

ভিড়ের আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন

স্কন্ধকাটা বিকলাঙ্গ ছায়া হয়ে

 

সেই থেকে আমিও একলা হাঁটি

নিজের সাথে চলি, কথা বলি

নিজের সাথে, মানুষ দেখলে সভয়ে

আঁতকে উঠি, স্কন্ধকাটা আতঙ্কে

 

২৮শে সেপটেম্বর ২০২৩

 

হাতছানি

 

হাতছানি

 

এই তো সেদিন তেপান্তরের মাঠে

জলে থই থই সাত সমুদ্র গল্প

 

আকাশটা তো নীলের মাঝে হারায়

বাতাস যখন বুক ভরে নেয় শ্বাস

 

তেমনি তখন দেখি তোমার মুখ

চোখের তাড়ায় কপাল জোড়া ভাঁজ

 

কি যেন এক বলবে কথা বলে

জেনে নিলে নাম ঠিকানা ধাম

 

আমিও কেমন, কল্পলোকে থাকি

বসে বসে তোমার কথাই আঁকি

 

ভোটের আগেই ভোটাররা দেয় ভোট

আশার বাণী যেমনটা শোনে রোজ

 

সেই থেকে তো, গলির মুখে আমি

চোখ রেখেছি, সজাগ দুই বেলা

 

ভোটার যেমন কাগজ খুলে খোঁজে

কোথায় কোথায় গুড় বাতাসা জোটে

 

অমনি করে দেখবো কবে তুমি

হাত নেড়েছো‌, ডাক দিয়েছো কত

 

কি যেন এক বলবে কথা বলে

দাঁড়িয়ে আছো মহাকালের মতো

 

২৭শে সেপটেম্বর ২০২৩

 

 

 

ঘুমের ভিতরে

 

ঘুমের ভিতরে

 

ঘুমের ভিতরে

আরও গভীর ঘুমের হাতছানি

আদি এবং অনন্ত সময় যেখানে স্থির

 

বহুদূর নক্ষত্র পতনের শব্দ শুনি

শুনতে শুনতে ক্লান্ত হই

ঘুমের ভিতরে

 

আরও গভীর ঘুমে

অনন্ত শরশয্যা পেতে শুয়ে আছি

অমাবস্যার অবারিত নিবিড় রাত্রিতে

 

নীল কামনার নারীর মতোন কেউ

এই সময় ঘুম ভাঙাতে এলে চলে যাবো

আরও গভীর গভীরতর ঘুমে

 

২৭শে আগস্ট ২০২৩

 

 

 

 

 

 

জলের মাতন

 

জলের মাতন

 

জলের ভিতরে চঞ্চলতা আছে

জলের মতো করে ছন্দে ছন্দে

পা ফেলতে চেয়ে পিছলে পড়েছি

সময়ের হাইওয়ে এগিয়ে গিয়েছে

 

তারপর কত জলের উত্তাল ঢেউ,

ঢেউয়ের মাতন আমার হৃদয় জুড়ে

আছড়িয়ে পড়েছে বারবার, তবু

আমি নিশ্চল কিংকর্তব্যবিমূঢ়

 

পরিযায়ী মন ডানা মেলতে চায়

এই আকাশ, আকাশের নীল

বাতাস, বাতাসের মতো উচ্ছ্বাসে

তবু আমি তল্পিতল্পা নিয়ে স্থির

 

স্থিতু হয়ে বসার মতো নিরুপদ্রব

এক অনন্ত জীবনের খোঁজে, শিকড়

নামিয়েছি একটু একটু করে প্রতিদিন

তবু জলের মাতন আমার ভিতর…

 

২৮শে আগস্ট ২০২৩

 

তবু কোলাহল

 

তবু কোলাহল

 

যে কথাগুলো বলা উচিত ছিল

নীতিবাক্য নয়, প্রলাপ কিংবা বিলাপও নয়

নয় মনের দুঃখ পাতায় ভিজে অক্ষরে লেখা

সে সব কথার ভিতরে কুড়ে কুড়ে খাওয়া সত্য

 

কফিনবন্দী জবানবন্দির মতোন, সত্য

জমাট বাঁধা অন্ধকারের মতোন নিত্য

সে সব কথার ভিতরের কথাগুলো সব

চলে যাওয়ার আগে বলে যাওয়া ভালো

 

এই যে জমকালো আলোর মায়াজালে

সম্মোহিত বিবেকের পটে শৃঙ্খলিত সুখ

গৌতম বুদ্ধ নয়, চৈতন্যের আলো নয়

ইঁদুরের মতো দৌড়, সকলের আগে

 

তারপর সাদা পাতা জুড়ে আত্মশ্লাঘার ঘুণ

জয়মাল্য বরমাল্য চমকানো প্রহর, তরপর

সেই খড়কুটো উড়ো খই, সেই ধুলো ঝেড়ে

ইতিহাস উঠে দাঁড়াবে নিজের গরজে না’কি!

 

কে বা কাকে মনে রাখে, ফটোর ফ্রেমে

কয়টি দিন ধরাই বা থাকে? বাকি সব

শিশিরের জল, ভেজাতে পারে কি মাটি?

শস্য ফলে না শিশিরের জলে, তবু কোলাহল

 

২৭শে আগস্ট ২০২৩

বিষের মন্থন

 

বিষের মন্থন

 

জলের সঙ্কেত ধরে ধরে

পা ফেলছি সাবধানে

এখনো মড়া হাড়ে

প্রাণের স্পন্দন খুঁজি

এখানে ওখানে

 

শহর নগর জুড়ে

ভুত প্রেত দৈত্য দানো

তবুও কবর খুঁড়ে

আবারো মহাকাব্যের

সলতে পাকানো

 

চারিদিক নরক গুলজারে

বিষের মন্থন প্রতিদিন

তবুও জমাট অন্ধকারে

জন্ম দিয়ে যেতে হবে

চে গুয়েভারা লেলিন

 

২৭শে আগস্ট ২০২৩

বুকের বাঁদিকে

 

বুকের বাঁদিকে

 

বুকের বাঁদিকে

অনেকেরই ব্যাথা হয়,

অনেকের হয় না

চেতনার ছায়ায়

সকলেই স্থির নয়

কারুর কারুর ভিতরে

ঘুণ পোকা নড়ে চড়ে

কুরে কুরে খেয়ে নেয়

চৈতন্যের অস্থিমজ্জা রস

 

সেইরকমই কয়েকজন

শ্রীমুখ দেখিয়ে, দেখি

মঞ্চ কাঁপায়, হাত নাড়ে

বারবার মঞ্চ বরাবার,

স্মিত হাসি হেসে

অনৃত ভাষণে করতালি

মুখরিত সন্ধ্যায়

নিজেরাই পুলকিত হয়

সবচেয়ে বেশি

 

বুকের বাঁদিকে

অনেকেই ব্যাথা পায়

এই সব ছবি দেখে,

মুখশ্রীতে আঁকিবুঁকি যন্ত্রণায়

পাশ ফিরে শোয়।

মগজ বরাবর অনিদ্রার

অভিশাপ মহানিদ্রার অভিসারে

ভুলিয়ে রাখে, নয়ত

বেদনা সহ্য করাই দায়

 

২৭শে আগস্ট ২০২৩

 

শব্দের পরিখা

 

শব্দের পরিখা

 

যতদূর পারি, শব্দের শরীরে

নিজেকে জড়িয়ে নিই

 

সমস্ত ইন্দ্রিয় জুড়ে এই জ্বালা

নিঙড়ে নিতে থাকে এই আমাকে

 

ওদিকে, সেই তিনি

যিনি মিটমিট হাসিতে গুণ টানেন

 

ইরেজার হাতে বসে থাকেন

মহাকালের পাড়ে

 

শব্দের হাত ধরে তবু আমি

আমাকে সাজাতে থাকি

 

দেওয়াল লিখন থেকে কপালের রেখায়

অক্ষরের মায়া জুড়ে আত্ম প্রতিলিপি

 

মাঝখানে পড়ে থাকে পাণ্ডুলিপি জুড়ে

বিধিলিপির রেখা, পাঠকের নাগালের বাইরে

 

২৩শে আগস্ট ২০২৩

 

 

সকলের মতোন

 

সকলের মতোন

 

এই দেখুন, এখনো কেমন বেঁচে আছি

বাকি সকলের মতোই লজ্জার মাথা খেয়ে

 

মননে ধু ধু প্রান্তর মরুভুমির মতোন বিশুষ্ক

হৃদয়ে ইট কাঠ পাথরের দেওয়ালের সারি

 

চোখ? চোখের সাম্রাজ্যে শপিং মলের ভিড়

আর ফ্যাশন শো’য়ের মিস ইউনিভার্স

 

হাতে এতো কাজ, যে ঘড়ি দেখার সময় নেই

নির্দিষ্ট গন্তব্য ছাড়া নামি না কোথাও

 

বিয়ের পিঁড়িতে বসে ছাদনাতলায় এসেছিল সে

তারপর আদাজল খেয়ে সংসার পাতানো

 

বকেয়া রোমান্সগুলো মধ্য রাতের ক্লান্তিতে

একটু তাড়িঘড়ি ঘুমিয়ে পড়ে পাশাপাশি বালিশে

 

পরকীয়া নেই, পিএনপিসি ষোলআনা দুইজনে

‘নেবার্স এনভি ওনার্স প্রাইডে’র প্রোজেক্টে ব্যস্ত

 

তারপর, সকালের কাগজে চোখ বুলিয়ে নিয়মিত

ছ্যা ছ্যা করি, সবকিছু গোল্লায় গেল যাহোক…

 

২৮শে আগস্ট ২০২৩

সুড়ঙ্গ এগিয়ে চলেছে

 

সুড়ঙ্গ এগিয়ে চলেছে

 

সুড়ঙ্গের প্রান্তসীমায় পৌঁছাতে চেয়েছি

জেনেছি, ও প্রান্তেই সমস্ত অন্ধকার ছাপিয়ে

অনন্ত জ্যোতির্লোকে তিনি রয়েছেন

 

এপারে আমাদের রাজত্ব, হাঁটি কিংবা হামাগুড়িই দিই

এপারে দেখিনি কোথাও তাঁকে, এতটাই অন্ধকার

এপারে পথ হারানোর ভয় তাঁকেও পিছু ছাড়েনি বোধহয়

 

সুড়ঙ্গের প্রান্তসীমায় পৌঁছাতে চেয়েছি

জেনেছি, ও প্রান্তেই সমস্ত অন্ধকার ছাপিয়ে

অনন্ত জ্যোতির্লোকে তিনি রয়েছেন

 

এপারে আলো নেই, তিনি নেই, অন্তহীন গহন সুড়ঙ্গে

আমরা কয়জন, তাঁকে দেখতে চেয়ে পথিক হয়েছি

আমাদের পথে পথে, পথই এগিয়েছে শুধু

 

সুড়ঙ্গের প্রান্তসীমায় পৌঁছাতে চেয়েছি

জেনেছি, ও প্রান্তেই সমস্ত অন্ধকার ছাপিয়ে

অনন্ত জ্যোতির্লোকে তিনি রয়েছেন

 

সেই পথে অন্ধকার আরও গাঢ় হয়ে সুড়ঙ্গ এগিয়ে চলেছে

বহুদূর, বহুদূরে দূরে সরে গিয়েছে অমৃত জ্যোতির্লোক

আমরা এগিয়েছি যত, তিনি তত দূরে দূরে গিয়েছেন সরে

 

২৭শে আগাস্ট ২০২৩

সে আছে

 

সে আছে

 

মহাশূন্যের মতো গভীরে

অনন্ত শূন্যতায় ভেসে আছি

পরম বিশ্বাসে

……সে আছে

 

গোপন অভিসারের মতোন মাতনে

নিবিড় সান্নিধ্য যেন নিয়ত

পরম তৃপ্তিতে

……সে আছে

 

কল্পনা? না’কি স্পষ্ট অনুভব!

এই তো হাতে হাত ধরা

আলিঙ্গনে

……সে আছে

 

অনন্ত সময় গ্রন্থিতে শাশ্বত উষ্ণতা

এই ছোঁয়া, ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকা

পরস্পরে

……সে আছে

 

তবুও নক্ষত্র পতনের মতোন মুহুর্মুহু

শব্দ শুনি, শুধু জানি স্থির

নিশ্চিন্তে

……সে আছে

 

মহাশূন্যের মতোন গভীরে

মহাবোধি প্রত্যয় না’কি মহাভ্রান্তি?

শুধু জানি

……সে আছে

 

২৭সে আগস্ট ২০২৩

হোমাগ্নি

হোমাগ্নি

 

স্বপ্নবীজতলায়

স্বপ্নের রঙে নীলচে নীলচে দাগ

কালসিটে নয়, তবু যন্ত্রণার মন্থন রয়েছে

 

এই সময়

ফলবান উদ্ভিদের মতো

মাকাল ফলের গরম বাজার

 

আলোকিত মঞ্চে

স্বপ্নের ফেরিওয়ালাদের ভিড় দেখে

মন্ত্রমুগ্ধ জনতার উল্লসিত মহামিছিল

 

রোদবাতাসের মতো

সেই মিছিলেও আমি মানুষের মুখ খুঁজি

একজন দুইজন যে কয়জন হয় হোক

 

তবু দুই একজন নিয়ে

আরও একবার প্রজ্জ্বলিত হোমাগ্নি

যদি জ্বালানো যেত!

 

২৭শে আগস্ট ২০২৩

 

 

যে কবিতাটি খুঁজতে চান তার শিরোনাম দিয়ে সন্ধান করুন