শেষ কথা নেই শেষ কথা কে বলবে?


 

শেষ কথা নেই শেষ কথা কে বলবে?

 

এখানে প্রত্নতত্বের সমাধি আছে।

উনছুট্টি মন আর কবুতরের পাখনার মত নয়।

মহাজগতের ইশারার মতো

গুপ্ত বার্তার রঙ লেগে আছে যেন চারিদিকে।

তবুও মানুষের মন গোপনাঙ্গের নিভৃত লগ্নের মতো।

পরস্পরের গাঢ় সান্নিধ্য দাবি করে।

কোথাও গল্পের প্লট নেই কোনো আর।

সব গল্পই শেষ অক্ষরে এসে মিলিযে গেছে।

সেই কবে– ধ্রুবতারা জন্মের আগে।

তারপর মহাস্থবির শুন্য পরম শান্তি হয়ে

চুপ হয়ে নিশ্চুপে বসে আছে।

মানুষের মন তবু চুম্বনের প্রলম্বিত আস্বাদের মত।

পরস্পরের প্রগাঢ় সান্নিধ্য দাবি করে।

সমস্ত কোলাহল শেষে

ধ্রুবতারার থেকে কয়েক আলোকবর্ষ পরে

কোন এক দিন যদি দেখা হয় পরস্পরে।

এখানে প্রত্নতত্বের সমাধি প্রান্তরে।

সন্ধ্যারাত্রির নিবিড় সান্নিধ্যের মতো।

মহা নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে কে প্রথম কাছে আসবে প্রিয়ে?

 

শেষ প্রশ্ন

 

 

শেষ প্রশ্ন

 

মোমের মতো গলে পড়া সন্ধ্যা

মহানগরীর ত্রিফলা আলোর স্রোত

বারবনিতার মতো মুগ্ধতা ছড়ায়

চৌষট্টি কলার রাত দাঁড়িয়ে থাকে

 

সিলেবাস জুড়ে হাড়হাভাতের স্বপ্ন

ভাতের থালা থেকে বিশ্বসুন্দরীর ঠোঁট

ক্যানভাস জুড়ে বণিকের মানদণ্ডে

নিরুপিত প্রতিটি জয় পরাজয়

 

না এটা কোন বিষয় নয়, মহাকাল

নেমে এসে দাঁড়ালে চারপাশে

অন্যতর গূঢ় উদ্দেশে বিপ্লবের

নতুন কোন পাঠে

          আর কি প্রয়োজন আছে?

 

আশ্বিনের নবম দিবস’ ১৪২৫

শেষ প্রস্তর যুগ

 

 

শেষ প্রস্তর যুগ

 

এখানে এককালে সেল্ফি তোলা হতো খুব

নিজের সেল্ফিতে নিজেই আত্মহারা সকলে

তখন অখণ্ড অবসরের সময়, সারাদিনে

‘আমাকে দেখুন’ পর্ব ওয়ালে ওয়ালে

 

কে যে কখন কাকে কিভাবে দেখতো

সেটা জানতেই যত আনন্দ

সে এক দিন ছিল, হাতে হাতে

হাতের মুঠোয় দুনিয়ার ভালোমন্দ

 

বাকি কথা অনন্ত ঘুমের অতলে

পরস্পর দ্বিধা দ্বন্দ্ব ঈর্ষার আড়ালে

সে এক দিন ছিল, হাতের মুঠোয়

দুনিয়া নিয়ে পরস্পর চলতো সকলে

 

সেসব অনেক অনেক দিন আগেকার কথা

মানুষের ঘরে ঘরে চাবি দেওয়া তালা

মনে মনে কাঁটাতারের উঁচু উঁচু পাঁচিল

সেল্ফির ক্ষতজুড়ে শুধু বিষাক্ত জ্বালা

 

৫ই চৈত্র ‘১৪২৭

 

শ্রীনগরের পথে

  

 

শ্রীনগরের পথে

 

এখানে আর্ত চুম্বনের আস্বাদ

এখানে বিবস্ত্র লাশের আলিঙ্গন

এখানে পোড়া মাংসের আলপনা

         এখানে রাজনীতির কনভয়

 

এখন জনসভায় দেশপ্রেমের পতকা

এখন জনরোষে উৎফুল্ল জননেতা

এখন জনমানসে রাষ্ট্রই ঈশ্বর

       এখন ক্ষমতার পৌষমাস

 

এরপর ভোটের লাইনে আমজনতা

এরপর পেটের ভাতে প্রতিদিন

এরপর নতুন খবরে হেডলাইন

        এরপর কার কি বা এসে যায়

 

                                                ৩রা’ ফাল্গুন ১৪২৫

সংকল্প

  

সংকল্প

 

শব্দের নোঙর ফেলে দেখেছি

জলন্ত চিতার আগুনে

 

সর্পিল সময়ের স্রোতে ঢেউ তুলে

তবু কোন বেদবাক্য আসেনি উঠে

 

ভালোবাসার ঠোঁটে ফোঁটা ফোঁটা চুমু

নাক্সভোমিকার মতো টুপ টুপ ঢেলে দিয়ে

 

জুড়াতে পারেনি হৃদয়, কাঁচ ভাঙ্গা

প্রণয়ের পাশে বেমানান সব’ই

 

শরীরের ওমে ধ্রুপদ ধামারে বরং

আর একবার এসো ফিরে

 

আদিবাসী নৃত্যের জ্যোৎস্নার মতোন

অমলিন গল্প ধরা যায় কি না যায়…….

 

                                               ৫ই শ্রাবণ’ ১৪২৭

সংক্রমণ

  

 

সংক্রমণ

 

থালা বাজলো তালি বাজলো বাজলো কাঁসর ঘন্টা

মন্ত্রী খুশি শান্ত্রী খুশি, খুশি সবার মন’টা

            রাত নয়টা ভারতবাসী নয় মিনিটের যুদ্ধে

            নিভিয়ে আলো জ্বালিয়ে প্রদীপ করোনাকে রুখবে

আকাশ জুড়ে পুষ্পবৃষ্টি দেখলো ভারতবাসী

কোটি টাকার ফুলের স্মৃতি হয়নি আজও বাসি

            ফুল পড়েনি তাদের মাথায় হাজার মাইল পথে

            বাড়ির পথে হাঁটার সময় ভগ্ন মনোরথে

রিক্ত ওরা ছিবড়ে জীবন, রাজার এঁটোর মতো

এই ভারতের পথে পথে মরলো কতো শত

            আমরা আছি দিব্বি সুখে করছি কত তর্ক

            মুখোশ এঁটে দিবানিদ্রায় সব্বাই সতর্ক

হাঁচি হচ্ছে? কাশি হচ্ছে? করোনা হয় যদি

তফাৎ যাও! তফাৎ যাও! অটুট থাকুক গদি

            বিশ্বক্রমে আজকে ভারত চার নম্বর স্থানে

            হাজার দশেক মৃত্যু খুবই তুচ্ছ কে না জানে

এই সাফল্য নজির বিহীন জানে ভক্তজন

চোখের দেখায় কানের শোনায় ছড়ায় সংক্রমণ

 

                                               ৩২শে জ্যৈষ্ঠ’ ১৪২৭

সংলাপ আলাপে প্রলাপে

 

সংলাপ আলাপে প্রলাপে

 

সময়ের রুগ্ন হাতলে ভর দিয়ে এখনো কি দেখ তুমি?

মৌখিক আলাপের চড়া মেকআপ

সাংবিধানিক ঘোমটায় আমাদের তাথৈ নৃত্য

বুদ্ধির অলিন্দ জুড়ে শুধু চৌখশ হয়ে ওঠা

মুখোশটা ঠিক রেখে- রাখো!

 

অনেক মনীষীর ভ্রূণ ঘেঁটে এই বাংলা দেখেছে

যা দেখার ছিল। পরজীবী গোত্রের মন্ত্রে

উল্লসিত সমাজ সম্প্রদায় সকালের রোদ

সমস্ত ইচ্ছার সলতেতে আগুন দিয়ে

কাঁটাতার খেলা করুক হৃদয়ে তাহার!

 

অভিধান ঘেঁটে দেখি সকাল বিকাল

শিরদাঁড়ার ঘ্রাণ মুছে দিয়ে ফিনিশিং লাইনে ভিড়

তবু দুপাটি দাঁতের খাসা হাসি সময়ের কাস্তেতে

শান দেয় রোজ। এই পথে হেঁটে দেখো

তোমারও প্রপিতামহদের লম্বা লাইন!

 

সিঁড়িভাঙ্গা অঙ্ক জুড়ে বেয়াদপ মইয়ের দাপাদাপি

আমিও দেখেছি। মঞ্চজুড়ে কাঠপুতুলের

কালোয়াতির রাতে বেদখল হয়ে যায়

হারানো জমি। যাক তবু তো সোনার বাংলা জুড়ে

সোনার বিষবৃক্ষ ফলিয়াছে তোমার আমার!

 

কাটা ঘা জুড়ে নুনের ছিটে দেওয়ার মতোও

কেউ নেই আজ আর। তাই পোয়াবারোর সময় এখন

নেপোদের তর্জন গর্জন আর ইস্তাহার

বিলাতী ঢেকুড়ে নয়তো

হাতছাড়া হয়ে যায় সবেধন নীলমনি!

 

তাই এসময়ে লজ্জা পেতে নাই

সময়ের আঁচে বুদ্ধি সেঁকে দেখি আমিও সকলের

মতো আমাদের হয়ে বাঁচি। হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব

বিবিধ রতন। আমি তুমি আর সে পরস্পরের মুখে

প্রতিবিম্ব পড়ে এই বাংলার তোমার আমার!

সংলাপ আলাপের শেষে

 


সংলাপ আলাপের শেষে

 

সবকিছু শেষ হয়ে গেলেও

থেকে যায় অবশেষ কিছু

পিছু নেয় সেই স্মৃতিখানি

বিষাদ কিংবা যন্ত্রণার বা গ্লানির

 

না তাই নিয়ে ক্ষোভ নাই কোন

এখনো রয়েছি ছিলাম যেমনই

শুধু ব্যাথাগুলো টুপটাপ পড়ে

ঘরে নির্বাক ক্যালেণ্ডার তেমনই

 

একদিন দিয়েছিলাম কথা

রয়ে যাবো চিরকাল সাথে

হাতে রেখে হাতদুটি শুধু

ধূ ধূ আজ নির্বাক রাতে

 

সেই সব স্মৃতিময় স্মৃতি

গতিহীন স্থবির প্রতীতি

জীবনের ধূসর দেওয়ালে

বৃথা সব একবার খোয়ালে

 

৭ই জৈষ্ঠ’ ১৪২৫

সব পেয়েছি সুখের দেশ

  

 

সব পেয়েছি সুখের দেশ

 

শোনা গেল রাজ পেয়াদা এসে

ধরে নিয়ে গেছে তাহারে

কলমটি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে হেলায়

লেখাটেখা ভারী বুটের তলায়

 

ধর্ষিত নারীর যোনির মতো

বিপর্যস্ত বিদ্ধস্ত

চাপ চাপ রক্তের মতো

অক্ষরগুলি সন্ত্রস্ত স্বভাবত

 

শোনা গেল রাজদ্রোহের গল্প

বিপ্লব ষড়যন্ত্রের নীল নকশা

নিষিদ্ধ মতাদর্শের সাথে সহবাস

অপরাধ কালি ও কলমের, সর্বনাশ

 

জমজমাট রাজসভা সহমত সকলে

সেইমত ঢ্যাড়াঁ পিটানো চৌদিকে

সব পেয়েছি সুখের দেশ

সেটাই সত্যি রাজ-আদেশ

 

শোনা গেল মোসাহেবী হাসি

দক্ষিণে বামে চাটুকার জলসায়

অপরাধী তিনি কালি ও কলমে

রাজাকে ল্যাংটো বলেন কোন শরমে

 

                                               ভাদ্র সংক্রান্তি’ ১৪২৫

সময়ের অন্তরালে

  

সময়ের অন্তরালে

 

আমি নই হয়ত অন্য কোন কেউ

যে ঠিক, না আমার মত করে নয়

ঠিক তার মতো রাত্রি দিন

                        নিয়তির বল্গা ধরে

                        আমাকে ঠেলে ক্রমাগত

                                    জীবনের গোলকধাঁধায়

 

অফুরন্ত জীবনের মিছিলের থেকে

দূরে বহুদূরে, অনেক দূরে

আমি কি তারই ক্রীতদাস তবে

                        শৃঙ্খলিত বোধের মাত্রায়

                        রুদ্ধদ্বার চেতনার অনুলিপি

                                    অপরিচিতের বয়ানে

 

স্বাক্ষরিত জীবনীর আত্মকথনে

যে কথা লিখে যাই দিনলিপির অক্ষরে

সে অক্ষর, না আমার নয়তো, নয়।

                        অপরিচিত সংলাপের আড়ালে

                        প্রবঞ্চিত সময় উট পাখির মত

                                    মুখ লুকায় সময়ের অন্তরালে

 

                                     ৪ই চৈত্র’ ১৪২৬

সমুদ্রবন্দর

 


সমুদ্রবন্দর

 

সমুদ্র ফুরিয়ে গেলে বন্দর জেগে ওঠে

তবুও ইতিহাস জুড়ে কত বন্দর

ডুবে গেল অথৈ ঢেউয়ের অতলে

 

মানুষের বেচাকেনার হাটে

লাভ কিংবা লোকসানের বহর

ধুলোমাখা হিসাবের খাতায়

কীটেদের খাদ্য হিসেবে মন্দ নয়

 

তবু নারীর মন পেতে জাহাজ মাস্তুল জুড়ে

সারেঙ খালাসি কিংবা কবি

বন্দরে নোঙর ফেলে রাখে

 

দু একটা ভুতুরে গল্প বাদ দিলে

সমুদ্র আর বন্দরের গল্প

ধর্মগ্রন্থে যাই লেখা থাক

কীটেরাই শেষ লেখা লিখে থাকে

 

৯ই ফাল্গুন’ ১৪২৭

 

সহবাস

  

সহবাস

 

তোমার শাড়ীর পাড়ে

যে ছন্দ তুমি ফুটিয়ে তোলো

তাকে আমি বলি

ব্যার্থ প্রয়াস!

 

কেননা তাতে তুমি সুচ্ছন্দ নও!

সে কথা আমার মত তুমিও জানো,

আর তাতেই তোমার জেদ যায় বেড়ে!

হয়তো এইটুকুই দেখতে

আমার পুরুষের রোজ ভুমিষ্ঠ হওয়া!

নয়তো শাড়ীর পাড়েই বা কেন

তোমার এ চঞ্চলতা!

 

তোমার শাড়ীর ঢঙে

যে তুমি, তাকে আমি বলি

সে তুমি নও!

 

তাতেই তুমি রাগলে আমার পর,

আমার চোখে লাগলো অনুরাগ!

সে কথা তুমিও জানো.

আর তাই ভেঙ্গে ভেঙ্গে

নাও যে গড়ে আমায়

বারে বার!

 

হয়তো আমার পুরুষের

তাতেই নায়ক হওয়া.

নয়তো শাড়ীর ঢঙেই

বা কেন

তোমার এ দুর্বলতা!

 

                                              (এপ্রিল ১৯৯২)

সাংবিধানিক

 


সাংবিধানিক

 

৩নং বেডে শুয়ে আছি

শব ব্যবচ্ছেদের এখনো অনেক দেরি

আগে তো মরতে দে!

 

ওষুধের চড়া দামে প্রাসাদের জৌলুসে

আমারও রক্ত লেগে থাক

ক্লেদাক্ত মাছিদের ভনভনে

 

ঢিল ছোড়া দুরত্বে প্রতিশ্রুতির গঙ্গায়

তর্পণের প্রস্তুতি নিক বরং

স্বপ্নদোষের স্খলিত বীর্য

 

করতল মেলে দেখে নিয়েছি

ভারতবর্ষ লেখে নাম

সংবিধানের অট্টহাস্য ধারায়

 

২রা কার্তিক’ ১৪২৬

 

 

সাক্ষীগোপাল

 

সাক্ষীগোপাল

 

কথা কমে এলে মনের ঝুলবারান্দায়

আমি একা। ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হয়তো বা

বিক্ষুব্ধ স্মৃতির টুকরো ছড়িয়ে এধার

ওধার। বাসে আছি হাত পা মেলে

 

টিপ টিপ রোদভেজা বৃষ্টির দালানে

কতগুলো সাদা বক। দুই ঠ্যাং মেলে

আমারই মতো ডানা গুটিয়ে জুবুথুবু

তবুও অপেক্ষা করে ফড়িং কিংবা মাছের

 

এদিকের পথে ও রাস্তায় গলি আর

বাইলেনে শান্তির সাইরেন বাজিয়ে

মিছিল এগিয়ে গিয়েছে অনেকদূর।

যতদূর ইভিএম ভোটারের ভিড়

 

আমি আর মুখোশের সংখ্যা গুনি না

বুদ্ধিজীবীদের আঁতুর ঘরে উঁকি দিলে

দেখা যেত হয়তো বা রাম শ্যাম যদুদের

জননী শুয়ে আছে দুই পা ফাঁক করে

 

মধ্যবিত্তের রাত্রি নামলে মশারির ভিতর

সকলেই নৃপতি তখন। ব্যস্ত বংশবিস্তারে

আমার হৃদপিণ্ডের জাদুঘরে থই থই

অক্ষরে মৃত সব মমিদের ব্যাথা নিয়ে

 

প্রসব বেদনা ওঠে। নবজাতকের শ্বাস

প্রশ্বাস আর মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে ইতিহাসের

প্রতিটি পাতা পড়ে দেখে নিয়েছি রং

নাম্বার শুধু। বাকিটা সময়ের প্রলাপ

 

১৫ই ভাদ্র’ ১৪২৭

সাদা ঘোড়া

  

সাদা ঘোড়া

 

একটা ঘোড়া কেনার সাধ বহুদিনের

শাদা মখমলের মতো রোম

স্পীড মিটারে কাঁটা কাঁপবে থরথর

 

বহুদূর জুড়ে পিছিয়ে যাবে একে একে

শহর বন্দর নগর মানুষের চলাচল

ইতিহাসের পাতা ওল্টানোর মতো

 

ক্যানভাস জুড়ে সবুজের আঘ্রান শুধু

রাত নামলে জোনাকির ঝাড়বাতি

শ্রাবণের মেঘে তাথৈ বৃষ্টি ঝিঁঝির সঙ্গতে

 

আদিম রমনীর মতো সম্পূর্ণ অনাবৃত

প্রস্ফূটিত ফুলেল হাসিতে টলমল

আদি অকৃত্রিম নীলাম্বরী সেই পৃথিবী

 

মানুষের ভাষা নয় কথা নয় কাজ নয় কোন

একটা সাদা ঘোড়া ছুটে যাবে শুধু অবিরাম

মখমলের মতো রোম স্পীডমিটার কাঁপবে থরথর

 

                                               ৪ঠা শ্রাবণ’ ১৪২৭

সান্ধ্য খবর

  

সান্ধ্য খবর

 

কেমন আছেন?

ম্লান হেসে মুখের দিকে চেয়ে

ভদ্রতাবশত জানতে চেয়েছিল সে

নাগরিক সান্ধ্য পোশাকে

ব্যস্ত শরৎকাল খেয়াল করেনি কিছু

 

বিস্তীর্ণ জানলা জুড়ে আদিগন্ত দুই চোখ

যেমন হারিয়ে যেতে পারে

পারতো কোন একদিন

আজ আর সে অবসর নাই

হাতঘড়ির কাঁটা মেপে দিনান্তের

জমা খরচ অপেক্ষায় থাকে

জবাবদিহির দায় যাত্রিকের

 

ভালো, আপনি? এদিকে হঠাৎ

কাজ ছিল বুঝি কোন

তারপর অসাড় স্মৃতি ঠেলে

বিস্মৃতির পারাপারে

সামুদ্রিক নুড়ি কুড়ানোর মতো টুকটাক

 

সময়ের উল্টানো পাতায়

বিবর্ণ অক্ষর পথ ছেড়ে চলে গেছে কবে………

 

                                               ২০শে আশ্বিন’ ১৪২৫

সান্নিধ্য ২

  

 

সান্নিধ্য

 

ইতিহাসের হলুদ পাতার মতো

আজ তুমি। অনেক তর্কের শেষে

সবটাই ধূসর মমতা

আমাদের রাত্রিনিবাসে

বিক্ষুব্ধ দীর্ঘশ্বাসের দেওয়াল জুড়ে

সে কি ছেলেমানুষিরই না এক্কাদোক্কা খেলা

তারপর স্তব্ধতার শব্দহীন কোলাজে

পরস্পর একা হয়ে যাওয়া

 

তবু নিঃসঙ্গ গন্ধ রয়ে যায়

শরীর জুড়ে মানসিক বিভ্রম জাগে

এই প্রেম আতসবাজির মতো কেন পোড়ে

ভুলে যাওয়া তবু ভালো

ভুলতে চাওয়ার থেকে

 

না, সবটাই শেষ কথা নয়

হয়তো তুমিও নও

সান্নিধ্যটুকুই স্মৃতিময় জ্বালা

 

                                               ১৯শে চৈত্র’ ১৪২৫

যে কবিতাটি খুঁজতে চান তার শিরোনাম দিয়ে সন্ধান করুন