পূর্বাভাস

পূর্বাভাস


জানি লালকার্পেটের ভিতে

ভাঙন ধরাতে সময়ের করাত শান দেয় রোজ।

তাই দেখ ২০১৩-

উন্মাদ হয়ে যাইনি এখনো।

এঁঠো শালপাতা চাটা বিমূঢ় সকাল শপিংমলের কাঁচে

প্রতিবিম্ব আঁকে প্রলাপের।

আমার সংলাপের সিঁড়ি

বেয়ে নীচে নামতে থাকে

স্লোগান বিচুর্ণ জেদ-

অবাঞ্ছিত মিছিলের শূন্য করিডোর ধরে

হেঁটে চলে যায় গোপন আঁতাত, পায়ে পায়ে।

লোকজন আসে, ভাষণে শাসনে সাইজ হয়ে

ঘরে ফেরে। রাত নড়বড়

খাটের কিনারে ভারতবর্ষের ভোর হয় লোকগণনায়।

তারপর ভোটার লিস্টে গণতন্ত্র লেখে তার নাম।

আমাদের চিরকুটে অনেক আষাঢ়ে গল্প নবান্নের চিত্রনাট্যের খসড়া নিয়ে।

এখনো শালবীথি হেমন্তের সন্ধ্যায় বন্দুকের নলে

স্বপ্ন ঝরালে

ঝড়ের অনেক পূর্বাভাস ঠিকমতো মেলানো

যেতো তাহলে। 

(০৫/০৬/১৩)

প্রজেক্ট ম্যানহাটন

প্রজেক্ট ম্যানহাটন


অগণন মানুষের মৃত্যু এসে

ইতিহাসের পাতায় জীবিত ও মৃতের স্তূপে

হৃদয় ম্লান করে দিয়ে ফিরে চলে যায়।

স্মৃতিফলকের গায়ে মানুষের নাম তবু

মৃত্যুর ব্যাথা নিয়ে উঠে দাঁড়ায়।

অন্ধকার বিস্ময়ে স্থির নেত্রে

শেষ বারের মতো প্রতিদিন মোম জ্বালায়

অগণন মানুষের মৃত্যুর জ্বালা নিয়ে

যে শিশু আজও জন্মায়,

মানুষের ঘরবাড়ি  নিশ্চিত আরাম কেদারায়

তারও বুকে ক্ষোভ জমে যদি সকাল সন্ধ্যায়?

অনন্ত রাত্রির গর্ভে

কোনো মানবিক আলোর ভ্রূণ যদি সাঁতরায়- মাথা ঠোকে

লুম্বিনী কিংবা বেথেলহেমের বন্ধ দরজায়?

সৃজনের ব্যর্থ আরতি

আজকের ভয়াবহ সময় ছেঁচে যদি আনে ভালোবাসা।

আবার মানবিক প্রেমের প্রত্যয়।

রাত্রি কাটবে কি তবু

নাগাসাকি কিংবা অগণন হিরোশিমায়?

 

(০৬/০৮/১৩)

 

প্রতিশ্রুতি

প্রতিশ্রুতি


অপার্থিব শোকের নিরিবিলি চুম্বনে

সোনালী গ্লিসারিন ফুল ফুটলে বলো--

তোমার বিষাদ খুঁটে খুঁটে

আর্তনাদের সিগন্যালে

মানুষের প্রতিবাদ টাঙিয়ে রেখে যাবো।

জলের ভিতর ভ্রূণের গল্প থেকে ধর্মের কলে বাতাস দিতে এলে

তোমার কিংবা মানুষের অজুহাতে থিতিয়ে যেতে দিও না

অশরীরী পতাকা নাড়া।

মন্ত্রপূত গুপ্তধ্বনি যত মহাফেজখানায় যত্নে রাখা থাক।

সে সব পাতায় তোমার বিষাদ জল

থাকুক ছুঁয়ে আতসবাজীর রঙ।

তবুও যদি প্রতিশ্রুতির রাত বন্যা হয়ে তোমার ঘরে ঢোকে,

সকাল জুড়ে শুকিয়ে নিও জামা যতই পুড়ুক ঘাম ভেজা প্রত্যয়।

বৃষ্টিবিন্দু সাজিয়ে রাখি দেখ।

সময় পেলে জল কোরো ছুঁয়ে ছুঁয়ে।

মন্ত্রপূত গুপ্তধ্বনিগুলি ভাসলে জলে আমায় মনে করে

আঁচলটুকু উড়িও শেষ সুখে।

 

(০৯/০১/১৩)

প্রতীক্ষা

প্রতীক্ষা

 

এইখানে ফাঁকা রেললাইনের বাঁকের মুখে দাঁড়িয়ে আছি।

একপাশে টলমল নদী হাজার বছরের জল নিয়ে চলছে।

ওপারে উচুঁউচুঁ টিলার ধারে সবুজের সমারোহ।

ট্রেনের সময় হয়েছে অনেকক্ষণ।

তবু বাতাস এখনো নীরব।

মাটিতেও বাজেনি চাকার শিহরণ।

বিনম্র ধারাপাতে নিয়মিত জল সিঞ্চন করে দেখেছি

প্রেয়সীর চুম্বনে ভেজেনা সমস্ত শরীর।

দরজা বন্ধ রাতের নিশিযাপন শয্যায়

অস্থিচূর্ণ অঞ্জলি দিয়েও পথ রয়ে যায় সংকীর্ণ।

পরশপাথরের খোঁজে নারীর হৃদয়ে

আলোর পতঙ্গ হয়ে ডানা ঝরে যায় শুধু।

এইখানে সোনালী নীরব আকাশে

প্রেয়সীর মুখ এঁকে দেখেছি চোখে পলক পড়ে কিনা।

টলমল জলের হাত ধরে তুলির আঁচড়ে

রঙের মোচড় দিচ্ছি শুধু।

প্রেমের শিহরণ শোনা যেত যদি অতিদূর ট্রেনের হুইসেলে।

 

(১১/১১/১২)

প্রথম আলো

প্রথম আলো

 

এখন কেমন লাগছে বলুন।

গঙ্গার ঘাটে অস্থি বিসর্জনের রাতে

নীরার চোখে পলক পড়েনি দেখেছেন?

একা এবং কয়েক জনের ভিড়ে ধুপ আর ধূনোর আধাঁরে

নীরাকে ঠিক কেমন দেখলেন তখন।

উদোম হাওয়ায় আঁচল ওরা নারী?

আকাশের নীল সাঁতরে সাঁতরে

বাংলার শেষ সলতেতে প্রেমের আগুন জ্বেলে স্থিরনেত্র?

নাকি রিমোটে লাইভ কভারেজে লবণাক্ত শয্যায়

ডুবে যেতে যেতে স্মৃতির হালখাতা খুলে খুলে....।

জীবনের গল্পগুলোকে ঠিক যেভাবে সাজানো যায়

এক মানুষ জীবনে। ইচ্ছের ঢেঁকিতে কুটে কুটে তৃপ্তির রঙে।

সেই ভাবেই হয়ত

তবুও মানুষ নীললোহিত ঘোরে দেখে নেবে নীরাদের।

 মেট্রোর অফিসটাইম থেকে নিমতলার লাইনে।

জন অরণ্যের সীমাবদ্ধ প্রস্তুতিতে

জ্বেলে দিতে প্রথম আলো?

 

(৩০/১০/১২)

প্রথম প্রেম শেষ প্রতিশ্রুতি

প্রথম প্রেম শেষ প্রতিশ্রুতি

 

এই প্রেম এই হাতে হাত ধরে চলা

অনর্গল অবান্তর কথা বলা

একদিন ফুরাবে

তখন কি হৃদয় জুড়াবে আরো?

এমনই রাজপথ ট্রাফিক জ্যামে ঝিমোবে,

মিছিলে মিটিঙে আসর কাঁপাবে নেতারা আবারো

তবু কি সুদিন ফেরাবে বলতে পারো?

আমাদের প্রেমের সংলাপ

বৃষ্টির মতো নদী হয়ে প্লাবন আনত যদি

যদি সত্য হতো মিথ্যা শিলান্যাস

প্রেম বল প্রতিশ্রুতি বল কৃষ্ণের বাঁশির মতো সব

গোপিনী নৃত্যের বৃন্দাবন

রাধার বিরহ তবু কাটে না তো আর জ্বলে যায় অন্তর শুধু

জ্বলে যায় পোড়ায় না কোনো ক্ষত

ব্যাথাহত আগুনের মতো  অঙ্গার হয়ে জ্বলে বারবার

তবু কি আমাদের প্রেম কোনোদিন সত্য কথা বলে

ভাঙ্গা শিল্যানাসের মতো সব একা

 অবুঝ প্রহর জুড়ে শুধু মানিয়ে নিতেই শেখা

 

(০৫/০৮/১৩)

 

প্রলাপ ও সংলাপের অন্তর্বর্তী

প্রলাপ ও সংলাপের অন্তর্বর্তী

 

গাছের পাতা বাসি হলে

বৌয়ের ঘরে আগুন

প্রেমের গতি অথৈ জলে

বৃথাই আসে ফাগুন!

 

আকাশভরা ঘোড়ার ডিমে

পকেট ভরা মানি

জীবন বীমার নানান স্কীমে

ঘুরছে কলুর ঘানি!

 

আসতে যেতে বাসি খবর

নেতার মুখে হাসি

ছাদনাতলায় খুঁড়ছে কবর

বরের ঘরের মাসি!

 

দরজা খোলা অর্থনীতি

ঘোমটা ফেলা বৌ

সুদের হাটে ভারত প্রীতি

উঠছে জমে মৌ!

 

জীবনভর হিসেব নিকেশ

প্রেমের গল্প ফেঁদে

নেতার মুখে স্বদেশ প্রীতি

ভোটার মরে কেঁদে!

 

ইতি উতি প্রেম পীরিতি

স্বামীর ঘরে চুরি

গণতন্ত্রের কেক কাটতে

সবাই শানায় ছুরি!

 

আমার তুমি তোমার আমি

এধার ওধার চুমি

ভালোবাসা হাঁফিয়ে পড়ে

ফোঁফায় বঙ্গভূমি!

 

(১৯৯১)

প্রহসন

প্রহসন

 

মেয়েটির কাপড় চোপড় নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময়

বিচারকদের চোখ জুড়ে

রাত নেমেছিল নিয়নে

 

মেয়েটির স্বভাব চরিত্র নিয়ে

বিধান দিতে গিয়ে

বিচারকদের ভাষা

আইন এঁকে গেল নিয়মে

 

আকাশ আর সমুদ্রের নীলে

ঈশ্বরের সোহাগ যদি থেকে থাকে

ও মেয়ে তুই দূর্বাশা হ

অভিশাপ দিসনে শুধু গর্ভ আর গর্ভিণী তোর মাকে

 

(২১/০৫/১২)

প্রেমিকের সাজ

প্রেমিকের সাজ 


বসন্তের হলুদে যখন

হলুদ হয় হেমন্ত।

 

শরীর জুড়ে শীত নামবে

অবুঝ মাতালের মতো.....

 

ঠোঁটের চৌকাঠ পেড়িয়ে

শীৎকারের অঙ্গীকার সার।

 

হৃদয়ের ধ্রুপদ ধামারে প্রেমের

ঘটি ডোবে নাতো আর।

 

ভালোবাসার বীজ তলায়

প্রয়োজনের আগাছা

 

ফিক্সড ডিপোজিটের স্কীমে

নিরাপদ রোজকার বাঁচা.....

 

তবুও শরীর জুড়ে বসন্তের

মড়া স্মৃতি বসন্তের পর....

 

টিকটিকি গিরগিটির

গ্রীষ্ম বর্ষার  কুচকাওয়াজ।

 

আমিও অনেক দিন পর

পড়েছি প্রেমিকের সাজ।

 

(০১/১১/১১)

ফাগুনে পলাশে কৃষ্ণচূড়ায়

ফাগুনে পলাশে কৃষ্ণচূড়ায়

 

প্রতিরাতে ঘুমোতে পারি না আর।

ফাগুনে পলাশে কৃষ্ণচূড়ার ঘোরে।

প্রতি রাত্রে ঘুমোতে পারি না আর

মালোবিকা সান্ন্যালের ঘ্রাণ অন্তর্বাস ঘুরে ঘুরে

ভুরভুর করে।

 

প্রতি রাতে ঘুমোতে পারি না আর।

পায়ে পায়ে ঈশ্বরের মুখোমুখি হলে।

বসন্তের রাত গায়ে গায়ে মালোবিকার আঁচল হয়ে ওড়ে।

 

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পরে

ফুলবেলপাতা দিয়ে সন্ধ্যাহ্নিক সেরে

শুনেছি গীর্জার ঘন্টা-

বেথেলহেম মক্কা মদীনা

কিংবা বৃন্দাবনে নয়,

বসন্তমাতাল রাতে মালোবিকার স্থিতপ্রাজ্ঞ

বুকের ভেতরে।

 

প্রতি রাতে ঘুমোতে পারি না আর।

পূর্বরাগের বালুকাবেলায় ফাগুনে পলাশে কৃষ্ণচূড়ায়।

মালোবিকা সান্ন্যালের দেহে

প্রথম বসন্তের মুখবন্ধে

ঈশ্বর কেঁদেছিলেন প্রথম

 প্রাণ ভরে।

 

(০৩/০৪/১৩)

ফেরা

ফেরা

 

মৃত্যুর কবর থেকেও

অনেক বড়ো অন্ধকার, শূন্যতা

নিস্তবদ্ধ হয়ে শুয়ে আছে

শূন্য দৃষ্টিতে তোমার আমার।

যে আঁধার মরুভূমির রাতের মতো ঠাণ্ডা।

হাড়হিম গ্লেসিয়ারের মতো নিশ্চল পাষাণ।

তার কোলে মন রেখে হৃদয়ের উষ্ণতা খুঁজি

তবু কি বলে? জানি না।

হয়ত রূঢ় ইতিহাসই নয় শুধু

শব্দের শৃঙ্খল ভেঙে ভেঙে

টুপ টুপ ঝরে পড়া সত্যে

মুখোশের বিকৃতি লক্ষ্য করে

অসহায় দুজনেই।

সব কাহিনীর মতোই গল্পের রঙে

অন্যতর গল্প লুকিয়ে থাকে জেনে

হৃদয়ের আলোড়ন নিয়ে

নোনা ঢেউ ভেঙ্গে ভেঙ্গে

তবুও ফিরে আসা।

নিস্ফল স্বপ্নের ডানা থেকে

সমস্ত বাসনা ধুয়ে নিয়ে।

প্রেমের আরতি নয়। নয় আত্মসমর্পন।

তবুও প্রাণপণ ফিরে ফিরে আসা। 

আসার প্রয়াস শুধু।

তোমার আমার আজীবন।

 

(০৫/০৮/১৩)

বন্ধ দরজার ওপারে

বন্ধ দরজার ওপারে


কে যেন দরজায় কড়া নেড়ে গেল।

 মধ্যদিনের ব্যস্ততার তাড়ায়।

 তোড়ায় বাঁধা জুঁই বেলী চেমেলীর গন্ধে

তার জন্য স্বপ্ন বিছিয়ে রেখেছিলাম।

জানতাম না যে সে আসবে।

তবু ঘাসের ডগার মতো সূর্যমুখে বসে থেকেছি।

আষাঢ়ের ম্লান আকাশের মতো সজলচোখের বারান্দায়-

তার শূন্য পদচিহ্ন এঁকে দেখেছি,

ভালোবাসার ডালপালায় যতি চিহ্নের

বড়ো বেশি উপদ্রব।

শঙ্খনীল আকাশের উড়ানের পথে,

মনের রঙিন আবির বার বার ধুয়ে যাবে জানি।

তবু মাঝ নিশীথের স্বরলিপি জুড়ে রজনীগন্ধার সৌরভ।

প্লাবনের শেষ নৌকায় বসে সবুজ ঘাসের গন্ধের মতো।

বন্ধ দরজার দেওয়াল জুড়ে তবু প্রশ্নচিহ্নের উকিঁ ঝুঁকি।

মধ্যদিনের ব্যস্ততার তাড়ায় সে কখন কড়া নেড়ে গেল?

শূন্য পদচিহ্নের বুকের উপরে।

 

(১৭/০৬/১৩)

 

বাকি কথা পরে হবে

বাকি কথা পরে হবে

 

একবিংশ শতকের সূতিকাগৃহে

তোমারে খুঁজেছি আমি ব্যস্ত নগরের নাগরিক মঞ্চে

 

তোমার হাতের বরাভয় আমাকে ছেয়ে

মামুলি মিছিল থেকে ফেস্টুন ব্যানারে

ভোটের লিস্টে বাংলার ধাঁধায় কি এসে যায় বলো?

সংখ্যা গণনার কাঁটাপুকুরে ময়নাতদন্তে

যে ই যাবে মসনদে-- নাগরিক মঞ্চ তার পিছু নেবে

 

তুমি পায়রা ওড়াবে সাদায়

কালো পতাকা নিয়ে বন্ধুরা

পাহারা দেবে

 

বাংলার কোষাগারে ঘটি না ডুবলে কি হবে

ঠিক মত সময়ে আতসবাজী পোড়াবে

চোখে যারা সর্ষেফুল দেখবে

তাদের জন্য শিশুপাঠে

তুমিও ইতিহাস হবে

 

(২০১২)

বিকার

বিকার


সে এক মেয়ে ছিল

আমারই ভালোবাসার মতো মুখ তার।

চোখ তার হাতকড়া, চাবি তার

ঠোট স্তন যোনি

 

হেঁটেছি ছুটেছি আমি

মাঠ থেকে ঘাটে

ক্লান্তিতে অবসন্ন ঠিকানাহীন পথে।

নিতম্ব দুলেছে তার আলেয়ার আলো

ফাঁক করে দিয়েছে সে

শুক্রের খনি

 

করেছি প্রশ্ন তাকে ঘড়িবন্ধ রাতে

স্তনেতে স্তনেতে তার

কি আগুন জ্বলে?

বলেছে সে আগুন না গো,

এ আগুন ছাই......

পৃথিবী বন্ধ্যা আজ

রুগী আমি তাই

 

 

 (১৯৯২ মার্চ)

বিক্ষুব্ধ সন্ধ্যা

বিক্ষুব্ধ সন্ধ্যা


প্রগৈতিহাসিক সন্ধ্যার আলো এখনো আমাদের

দুজনার বয়সের ভারে খেলা করে যায়।

সূর্যতামসীর বন্দরে আমাদের মনোমালিন্যের নোঙর জুড়ে

যখন প্রতিদিনের শ্যাওলা সবুজ থেকে সবুজতর হয়।

ঐতিহাসিক প্রেমের পোকাকাটা জীর্ণ ব্লুবুক জুড়ে

রোজকার ঠোকাঠুকিগুলো বয়সের ভারে ক্রমেই ধারালো।

পুরানো সংলাপের ন্যুব্জ ডানা জুড়ে

স্মৃতির বিবর্ণ ঘুড়ি মাঝে মাঝে ভোকাট্টা

বিবস্ত্র চাদরে।

প্রাগৈতিহাসিক সন্ধ্যার আলো

তবু দুজনার বিশুষ্ক হাইওয়ে ধরে যেন

শ্রবাণ ঝাঁপালো।

আজ এতদিন পর পাশাপাশি রাতের গল্পে

রোজকার উপসংহারে

লজ্জাগুলো তবু কি ঢাকল?

সূর্যতামসীর নিরালা বন্দরে

প্রাগৈতিহাসিক সন্ধ্যার আলো

পরস্পরের বিক্ষুব্ধ নোঙরে

তবু যদি লেগে যেত ভালো?

 

(২৮/০৬/১৩)

যে কবিতাটি খুঁজতে চান তার শিরোনাম দিয়ে সন্ধান করুন